চলমান বিধিনিষেধ আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

দেশে চলমান বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু এবং শনাক্তের সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে এমন সিন্ধান্ত নিল সরকার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোমবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে তিনি জানান, ২২ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত আরও এক সপ্তাহ লকডাউন বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর আজ কিংবা কাল প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

সারাদেশে গত ১৪ এপ্রিল শুরু হওয়া এ সর্বাত্মক লকডাউন শেষ হওয়ার কথা ছিল ২১ এপ্রিল। তার আগেই রোববার রাতে কভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ৩১তম সভায় ‘কঠোর লকডাউন’ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। এরপরই সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিবদের সভা থেকে লকডাউন বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত এলো।

লকডাউন বাড়ানোর এ ঘোষণার কিছুক্ষণ আগেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সরকার সারাদেশে আরও এক সপ্তাহ সর্বাত্মক লকডাউন বাড়ানোর সক্রিয় চিন্তা-ভাবনা করছে। সোমবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টায় নিজ বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্স যুক্ত হয়ে একথা জানান তিনি।

চেক করলেই দোষ, যেমন ইচ্ছে চলুক

করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে চলমান লকডাউনের (বিধিনিষেধের) মেয়াদ একই শর্তে আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ছে। সোমবার (১৯ এপ্রিল) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ তথ্য জানান। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারি কঠোর বিধি-নিষেধের সময় যতই বাড়ছে, ততই পথে-ঘাটে বাড়ছে মানুষের চলাচল, পরিবহন, অলিগলিতে খুলছে দোকানপাট। লকডাউন চলাকালে গত পাঁচ দিন রাজধানীর মোড়ে মোড়ে সক্রিয় দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ করে পুলিশকে। তবে সোমবার (১৯ এপ্রিল) সড়কে পুলিশের অবস্থান বেশ নমনীয় লক্ষ্য করা গেছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, কলাবাগান, ধানমন্ডি, পান্থপথ, সাইন্সল্যাবসহ শুক্রাবাদ এলাকায় প্রায় দুইঘণ্টার বেশি সময় সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা যায়। এসব সড়কে গত কয়েক দিনের তুলনায় ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেলের পরিমাণ অনেক বেশি দেখা গেছে। সঙ্গে অপ্রয়োজনে বাসা থেকে বের হওয়া মানুষের আনাগোনাও বেড়েছে। কিন্তু পুলিশ চেকপোস্টগুলোতে কড়াকড়ি কমেছে অনেকখানি।

দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, থানা থেকে সড়কে তল্লাশির ক্ষেত্রে নমনীয় অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধানমন্ডির মিরপুর রোডের লেক সার্কাস চেক পোস্টে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্ট বিকাশ হাওলাদার বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি যেন ভালোর দিকে যায় সেজন্য সরকার লকডাউন দিয়েছে। সে কারণে সড়কে সড়কে তল্লাশি। দরকারে-অদরকারে লোকজন বের হচ্ছে। কিন্তু তাদের বের হওয়ার কারণ জানতে চাইলে পুলিশের দোষ হয়ে যাচ্ছে।’

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের বড় স্যাররা থানা থেকে বলে দিছে দায়িত্ব পালন করার জন্য যতটুকু করা যায়, যে যার মতো করে চলতে চায় চলুক। আমরা মানুষের ভালোর জন্য চেক করলেই দোষ। অনেকেই সেটা ভালোভাবে নিচ্ছে না। চলুক যার যেমন ইচ্ছে হয়।’

গত কয়েকদিন এসব সড়কে মোটরসাইকেল চালকদের কড়া তল্লাশিতে পড়তে হয়েছে। সোমবার (১৯ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে, সন্দেহ না হলে কোনো মোটরসাইকেল চালককে থামানো হচ্ছে না। অনেকেই সড়কে বের হওয়ার সঠিক কারণ বলতে পারেননি। সাইন্সল্যাবে মুকতাদির নামের এক শিক্ষার্থী জানান, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে বের হয়েছেন।

করোনা রোধে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের প্রথম পাঁচদিনে রাজধানীতে ঘরের বাইরে আসা বেশ কিছু মানুষের সঙ্গে পুলিশের কথাকাটাকাটি ও ভুল বুঝাবুঝির বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটে। এসব মানুষ জরুরি প্রয়োজনে বা কর্মক্ষেত্রে যেতে মুভমেন্ট পাস নিয়েই রাস্তায় এসেছিলেন।

রোববার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে সরকারি বিধিনিষেধের পঞ্চম দিনে মুভমেন্ট পাস নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়ান চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তা। এদিন দুপুরে তিন পক্ষের বাগবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেই ভাইরাল ভিডিও পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

শেয়ার করুন