চলমান কঠোর লকডাউন নিয়ে সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার

চলমান কঠোর লকডাউন নিয়ে সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার

চলমান কঠোর বিধিনিষেধের (লকডাউন) মেয়াদ বাড়ানো হবে কিনা তা জানা যাবে আগামী মঙ্গলবার (৩ আগস্ট)। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গতকাল শনিবার (৩১ জুলাই) সংবাদমাধ্যমকে এসব কথা জানান তিনি।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে ৫ তারিখের পর কী হবে সেই সিদ্ধান্ত আমরা দেব। তবে লকডাউন কী পরিসরে থাকবে তা আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাব। চলমান এই লকডাউন কঠোরতম ছিল সে অনুযায়ী আমাদের সবকিছুই বন্ধ ছিল।

কিন্তু এখন তো আর সেটি থাকছে না। এখন স্বল্প পরিসরে খোলা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের শিল্প-কারখানা খোলা হচ্ছে। ৫ আগস্টের পরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আগামী ৩ আগস্ট সিদ্ধান্ত জানানোর চেষ্টা করব। ওইদিন না হলে ৪ আগস্ট সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিধিনিষেধ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উনারা সুপারিশ করেছেন আমরা জানি। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা সিদ্ধান্ত নেব। আপাতত রপ্তানিমুখী শিল্প-কলকারখানা খুলে দিচ্ছি। সেটাও সীমিত পরিসরে। সংক্রমণ কমাতে গেলে যেসব বিকল্প আছে, সেগুলো আমরা চিন্তা করছি।

তিনি আরও বলেন, যদি কিছু অফিস খুলতে হয়, সেই অফিসের জনবল কী হবে তা নিয়ে চিন্তা করছি। আমরা যতটা এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা।

শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, শনিবারই বিষয়টি বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে। যারা ঢাকা অবস্থান করছেন, বিশেষ করে যারা ঈদে বাড়ি যাননি এবং যারা ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ফিরে এসেছেন তাদের নিয়েই তারা (মালিকরা) কারখানা পরিচালনা করবেন। বাইরে থেকে তারা কোনো কর্মীকে নিয়ে আসবেন না।

তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে ঢাকায় না ফিরলে কোনো শ্রমিকেরই সমস্যা হবে না। কারণ, সেই শর্ত দিয়েই রপ্তানিমুখী কারখানা খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বিজিএমইএ, বিকেএমইএর নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ঈদে যারা (যেসব শ্রমিক) বাড়ি যাননি এবং ঈদের পর যাঁরা ফিরে এসেছেন, তাঁদের নিয়ে ছোট পরিসরে ১ আগস্ট থেকে কারখানা খুলবেন তাঁরা। আর আগামী ৫ আগস্টের পর ধাপে ধাপে কর্মচারীদের নিয়ে আসবেন। ফলে ৫ আগস্টের আগে কোনো কর্মচারী কাজে যোগ না দিলে (তাঁদের) কারও চাকরি যাবে না, কোনো সমস্যা হবে না।’

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ১ থেকে ৭ জুলাই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। পরে তা ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ঈদুল আজহার কারণে ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। পরে ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ‘কঠোরতম বিধিনিষেধ’ জারি করে সরকার।

শেয়ার করুন