চট্টগ্রামে ৯৩ শতাংশ করোনা রোগীই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত

চট্টগ্রামে ৯৩ শতাংশ করোনা রোগীই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত

চট্টগ্রামে করোনা রোগীদের মধ্যে ৯৩ শতাংশই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। চট্টগ্রামে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) গবেষণাটি করেছে।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) সহযোগিতায় ওই গবেষণায় ৩০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করে এই তথ্য পেয়েছে গবেষক দল।এর আগে, চট্টগ্রামে আলফা এবং বিটা ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পেয়েছিল। আলফা ভ্যারিয়েন্ট এখনও আছে, তবে অনেক কম।

এ বিষয়ে গবেষক দলের সদস্য অধ্যাপক ড. পরিতোষ কুমার বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জুলাই মাসের শুরুতে বাংলাদেশে দ্রুত করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকে। প্রথমে সীমান্তবর্তী জেলা এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকা অঞ্চলের নমুনায় দেখা যায়, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কারণে এত দ্রুত সংক্রমণ হচ্ছে। কিন্তু তখনও চট্টগ্রামে এই

ঢেউয়ের জন্য ভাইরাসের কোন ভ্যারিয়েন্ট দায়ী সেটি খুব একটা জানা যায়নি। এই প্রেক্ষাপটে আমরা কিছু নমুনা সংগ্রহ করে এগুলো জিনোম সিকোয়েন্স করার উদ্যোগ নিই। এরপর ৩০টি নমুনা সংগ্রহ করে এগুলোর পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স করার জন্য বিসিএসআইআরে প্রেরণ করি।’

তিনি বলেন, ‘সেখানে এসব নমুনার পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স করে দেখা যায়, ৩০টির মধ্যে ২৮টি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। যা শতকরায় প্রায় ৯৩ শতাংশ। অপর দুটির মধ্যে একটিতে আলফা ভ্যারিয়েন্ট। অন্যটিতে লিনেজ-এ শনাক্ত হয়েছে, যা উহান ভ্যারিয়েন্ট বলে সংজ্ঞায়িত করা যায়।’

এ গবেষক আরও বলেন, ‘৩০টি নমুনার মধ্যে ১৫টি সিটি করপোরেশন এলাকার এবং বাকি ১৫টি চট্টগ্রামে বিভিন্ন উপজেলার। এর মধ্যে ১২ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী ছিলেন। ফলাফলে দেখা যায়, শহর এবং গ্রামাঞ্চল সবখানে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সমানভাবে ছড়িয়েছে।’

গবেষক দলে অধ্যাপক ড. পরিতোষ কুমার বিশ্বাস ছাড়া আরও ছয়জন ছিলেন। তারা হলেন- অধ্যাপক ড. শারমিন চৌধুরী, ডা. ইফতেখার আহমেদ রানা, ডা. ত্রিদীপ দাশ, ডা. প্রণেশ দত্ত, ডা. মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ও ডা. তানভীর আহমেদ নিজামী। অন্যদিকে, গবেষণায় বিসিএসআইআর থেকে অংশ নেন প্রতিষ্ঠানটির মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সেলিম খান ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোরশেদ হাসান সরকার।

শেয়ার করুন