গৌরীপুরে ভাঙ্গা সড়ক মেরামত করল যুবকরা

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ভাঙ্গাচুড়া সড়ক মেরামতে এলাকার যুবকরা স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন। সংস্কারের অভাবে উপজেলার গোবিন্দপুর-শৌলঘাই কাঁচা সড়কের ভাঙ্গাচুড়াট অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই কাঁদা-পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় গ্রামবাসী ও যানবাহন চালকদের। শনিবার (২৭ জুন) সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর বাজার থেকে শৌলঘাই পর্যন্ত কাঁচা সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় দুই কিলোমিটার।

ওই দুই কিলোমিটারের মধ্যে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এছাড়াও সড়ক দিয়ে গোবিন্দপুর, শৌলঘাই ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ উপজেলা শহর হয়ে বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে। তাদের মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ রয়েছে। কিন্তু বর্ষায় সড়কের অবস্থা বেহাল থাকায় কয়েকদিন ধরে গ্রামের কয়েকজন যুবক নিজেরাই টাকা সংগ্রহ করে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কারের কাজ করে যাচ্ছেন।

দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারে প্রতিকার চেয়ে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ও মৌখিক আবেদন করেও সাড়া পায়নি গ্রামবাসী। পরে নিজেরাই টাকা সংগ্রহ করে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কারের কাজে নেমে পড়েন।

আশরাফুল হক লিটন নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, সড়ক সংস্কারে কাজ করছে যুবকসহ নানা বয়সের মানুষ। তাদের মধ্যে একদল কোদাল দিয়ে মাটি কাটছে। অন্যরা ঝুড়িতে করে মাটি নিয়ে সড়কের ভাঙা অংশ ভরাট করছে। পাশাপাশি সড়কের মাটি কাটা অংশে ড্রেজার দিয়ে বালু ফেলে সড়কের ভাঙা অংশ ভরাট করা হচ্ছে। বালু ভরাট শেষে সড়কের গার্ড ওয়াল ও ইটের খোয়া ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হুমায়ুন কবীর বলেন, তিনি শৌলঘাই গ্রামের বাসিন্দা। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পাকাকরনের দাবি জানিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদন করেছি অনেকবার। কিন্তু এ বছর বর্ষা এসে পড়লেও সড়কের সংস্কার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় গ্রামবাসী নিজেরাই বিত্তবানদের সহায়তা নিয়ে সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করেছে।’সরকার দেশে নানা উন্নয়ণ করলেও তাদের গ্রামে কোন উন্নয়ন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় যুবক আশিকুর রহমান নয়ন জানান, বর্ষায় কাঁচা সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। প্রশাসনের দুয়ারে বারবার ধর্ণা দিয়েও সড়ক সংস্কারের কোন সুরাহা না মেলায় নিজেরাই টাকা সংগ্রহ করে সড়ক সংস্কারের কাজ করছেন। এ কাজের জন্য তিন থেকে চার লাখ টাকা খরচ হবে। তবে শেষ পর্যন্ত এতো টাকা সংগ্রহ করা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। সংস্কার কাজটি সম্পূর্ণ করতে ১৫ দিনের মতো লাগবে।

গৌরীপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবু সালেহ মো. ওয়াহিদুল হক জানান, গোবিন্দপুর-শৌলঘাই সড়কটি পাকাকরনের জন্য একটি প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে। অন্যথায় তাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এই বিভাগের আরো খবর
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: