গভীর রাতে ডেকে নিয়ে গেল স্বামী: সকালে মিলল ছাত্রীর লাশ!

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে রোজিনা আখতার (১৬) নামের ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ছুরিকাঘাতে হ’ত্যা করে বাড়ির পাশে ফেলে গেছে তার পাষন্ড স্বামী মর্মে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার গুডুম্বা পূর্ব পাড়া গ্রামে ঘটেছে। নিহত রোজিনা আখতার গুডুম্বা ডি.এস ফাজিল মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গুডুম্বা পূর্ব পাড়া গ্রামের মকবুল হোসেনের মেয়ে রোজিনা আখতার (১৬) এর সাথে হরিসাড়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর পুত্র এক সন্তানের জনক মেহেদী হাসানের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েক মাস আগে মেয়েটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় থানায় মিমাংসার মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে এক লক্ষ ৫০ হাজার দেন মোহরের টাকা নিয়ে ঝগড়া-কলহ লেগেই থাকে।

রোজিনা আখতার বাবার বাড়িতেই থাকত। গত শুক্রবার গভীর রাতে তার স্বামী মেহেদী হাসান তাকে পিতার বাড়ি থেকে পরিকল্পিতভাবে মোবাইল ফোনে ডেকে নিজ ব্যাটারী চালিত ইজিবাইকে নিয়ে যায়। পরে শনিবার (২০ জুন) ভোরে স্থানীয়রা বাড়ির পাশে রোজিনা আখতারের নিথর মরদেহ পরে থাকতে দেখে পরিবারের লোকজনকে খবর দেয়। খবরে পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয়।

নিহতের পিতা মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়ের বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দেনমোহরের টাকা নিয়ে কলহ লেগে থাকত। শুক্রবার সকালে আমার মেয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে। এনিয়েও তাদের মধ্যে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। শুক্রবার গভীর রাতে জামাই মেয়েকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে সকালে ছুরিকাঘাত অবস্থায় বাড়ির পাশে তার লাশ দেখতে পাই’।

নিহতের মাতা ছালেমা খাতুন বলেন, ‘জামাই মেহেদী হাসান মোহরানার টাকা না দিয়ে মেয়েকে তালাক দেওয়ার হুমকী দেয়। এতে প্রতিবাদ করেও কোন লাভ হয়নি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ লেগেই থাকত। জামাই মেহেদী হাসান শুক্রবার গভীর রাতে আমার মেয়েকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে ভোরে ছুরিকাঘাত করে হ’ত্যা করে আমার বাড়ির পাশে ফেলে যায়’।

আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু ওবায়েদ বলেন, নিহত রোজিনা আখতারের স্বামী মেহেদী হাসানের প্রথম স্ত্রী থাকায় মোহরানার টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ চলছিল। শুক্রবার গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাত করে হ’ত্যা করে বাড়ির পাশে ফেলে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই তার স্বামী মেহেদী হাসান পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে আমাদের তৎপরতা অব্যহত রয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন