কেন্দ্র ফাঁকা; ঘর ভরা নেতা, চা-বাদামের আড্ডা!

নেতাকর্মী শূন্য বিএনপির ভোটের মাঠে। সকাল থেকেই অধিকাংশ কেন্দ্রে বিএনপির কোন এজেন্ট নেই। বাইরেও ভোটারদের স্লিপ দিয়ে সহযোগিতার ব্যবস্থা নেই। বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে কোথাও বিএনপির এজেন্ট সমর্থকদের দেখা মেলেনি। এমন কি বিএনপি প্রার্থীর বাসভবন (প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়) এর সাথে রয়েছে লাঘোয়া কেন্দ্র (যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজ) এর সামনে আওয়ামী লীগ কর্মীদের সরব উপস্থিতি থাকলেও বিএনপির কোন কর্মী দেখা নি।

আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল নয়টা থেকে কেন্দ্র পরিদর্শনে কয়েকজন কর্মী নিয়ে সালাউদ্দিন আহমেদ কেন্দ্র পরিদর্শনে নেমে গণমাধ্যমকে জানান, ৯৫ ভাগ কেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্ট বের করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু দুপুর ১২ টার পর বিএনপি প্রার্থীর যাত্রাবাড়ি প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, ঘরের ভেতর শত শত নেতাকর্মী! কেউ চা খাচ্ছেন আর কেউবা বাদাম খাওয়ায় চালাচ্ছেন জম্পেশ আড্ডা। ভিআইপি নেতাদের দেখা গেছে ডাব খাওয়ার দৃশ্যতে।

বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে বিএনপির এক নেতা উত্তেজিত হয়ে বলেন, আপনারা ঘরের ভেতর বসে না থেকে কেন্দ্রে যান, ভোটারদের স্লিপ দিয়ে সহযোগিতা করুন, ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসুন। এভাবে প্রতিটি কেন্দ্রে কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থক শুন্য থাকায় উপস্থিত বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে বিএনপি কী এই আসনের অতীত গৌরব রক্ষা করতে পারবে? একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে এই আসনে বিএনপি সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে। ঢাকার এই আসনটি হলো ঐতিহ্যের আসন।

সকাল নয়টা সায়েদাবাদ আর কে চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় গিয়ে দেখা গেছে, ভোট কেন্দ্রের ভেতরে বিএনপি কোনো এজেন্ট নেই। কেন্দ্রের বাইরে আ’লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা অবস্থান করছেন। এর আধা ঘন্টা পর একই চিত্র দেখা গেছে যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে। এখানেও বিএনপির কোন সমর্থক কে দেখা যায়নি। কেন্দ্রের ভেতরে নেই কোনো ভোটারও।

সালাহ্ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে আজ পর্যন্ত কোন নির্বাচন করতে পারেনি। তাই আজকের নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে না বলেই আমি মনে করি। বেশিরভার কেন্দ্র থেকে আমাদের এজেন্টদেরকে বের করে দিয়েছে। এজন্য ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ কেন্দ্রে আমাদের এজেন্ট নেই। তিনি বলেন, এটি একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন। তারা যেভাবে ত্রাস সৃষ্টি করেছেন এতে করে জনগণ তাদের ভোট দেবে না। তবুও আমি শেষ পর্যন্ত দেখবো এবং শেষ পর্যন্ত থাকবো।

বেলা ১১টার দিকে দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে দেখা গেছে, ভুতূড়ে পরিবেশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছাড়া কোন ভোটার নেই। বিএনপির কোনো সমর্থক নেই। বাইরে অবস্থানে আছে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর শত শত সমর্থক।

এর আগে বিএনপি প্রার্থীর মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, সকাল ৮.১০ মিনিটে ৫০ নং ওয়ার্ড এর ৯ নম্বর কেন্দ্র যাত্রাবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বিএনপির এজেন্টরা গেলে তাদের স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হয়। এছাড়াও ৬৮ নং ওয়ার্ডের হাজী আদর্শ মোয়াজ্জেম আলী হাই স্কুল, সানারপাড় রুস্তম আলী হাই স্কুল ও ফুলকলি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৬৬ নং ওয়ার্ডের ভ্যামুইল আইডিয়াল স্কুল, সারুলিয়া ডগাইর দারুস সুন্নত ফাজিল ফাদ্রাসা,৭০ নং ওয়ার্ডে ১৮৫ নং কেন্দ্র ( আমুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়), দেল্লা, ৬৬ নং ওয়ার্ডের ১৪৮ ও ১৪৯ কেন্দ্র থেকে বিএনপির সকল পোলিং এজেন্টদের পুলিশের সামনেই আওয়ামী লীগের উগ্রকর্মীরা বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি প্রার্থী। এদিকে ৪৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনু তার ওয়ার্ড এর সকল কেন্দ্রের দখল নিয়েছেন বলেও অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এই বিভাগের আরো খবর
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: