কি হবে দেশে আটকে পড়া সৌদি প্রবাসীদের?

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন জারির আগে দেশে আসা কয়েক লাখ প্রবাসী কর্মী আটকা পড়েছেন। অনেকের কাছে রিটার্ন টিকিট থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে যেতে পারেননি। এখন সেই টিকিট কনফার্ম করতে এসেছেন। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে-তারা কীভাবে যাবেন, তা নিয়েও উদ্বিগ্ন।

আর ভিসার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। এ সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে না ফিরতে পারলে তারা আর সৌদিতে যেতে পারবেন কী-না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এমন কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই বিক্ষোভে নামেন প্রবাসীরা। কারওয়ানবাজার মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সৌদি আরব থেকে ছুটিতে এসে আটকেপড়া প্রবাসীরা।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মতিঝিল কার্যালয় অবরুদ্ধ করেন তারা। কয়েকশ প্রবাসী এই বিক্ষোভে অংশ নেন। প্রথমে তারা কারওয়ানবাজারে সৌদি এয়ারলাইনস এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে মতিঝিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কার্যালয় অবরুদ্ধ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করেন। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা পর তারা অবরোধ তুলে নেন।

এদিকে, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ক্ষুব্ধ ও হতাশ প্রবাসীরা সৌদি আরবে ফেরার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ও ফ্লাইটের দাবিতে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ঘেরাও করেন। আর বিমান ও সৌদি এয়ারলাইনসের টিকিটের জন্য সৌদি প্রবাসীরা বুধবারও রাজপথে বিক্ষোভ করছেন। তার দুই এয়ারলাইনসের অফিসের সামনে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন, তারপরও টিকিট মিলছে না।

সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার টিকিট না পেয়ে আজ সকালেও রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সৌদি এয়ারলাইনসের কার্যালয়ের সামনে কয়েক হাজার প্রবাসী জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। এ সময় টিকিটের দাবিতে তারা নানা স্লোগান দেন। তারা বলছেন, ১ অক্টোবরের মধ্যে আমরা যদি সৌদিতে ফিরতে না পারি; তবে আমাদের আকামা বাতিল হয়ে যাবে।

বিক্ষোভে অংশ নিতে কুমিল্লা থেকে আসা একজন প্রবাসী বলেন, সরকারের জরুরি পদক্ষেপ না নিলে আমরা সৌদিতে ঢুকতে পারব না। আমাদের পরিবার বিপদে পড়ে যাবে। আমরা বেকার হয়ে পড়ব।

প্রবাসীরা বলেন, বিভিন্ন মেয়াদে তাদের সবার রিটার্ন টিকিট কেনা আছে। এ সময়ের মধ্যে তারা যদি সৌদিতে ফিরে না যেতে পারেন, তা হলে যেন তিন মাসের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সৌদি সরকারের কাছে সেই আবেদন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

এদিকে, ছুটিতে এসে দেশে আটকা পড়া কর্মীদের ভিসার মেয়াদ তিন মাস বাড়াতে সৌদি আরবকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এ বিষয়ে এখনো সৌদি আরবের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ভিসার মেয়াদ তিন মাস বাড়াতে ইতিমধ্যে সৌদি সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু দেশটির কাছ থেকে আশ্বাস করার মতো কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। উল্টো সৌদি কর্তৃপক্ষ দেশটিতে থাকা অবৈধ কর্মীদের ফিরিয়ে নিতে বলছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এই বিভাগের আরো খবর
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: