কাঁদলেন সেই বৃদ্ধা মা, প্রতিজ্ঞা করলেন আর ভিক্ষা করব না

বৃষ্টিতে ভিজে ভিক্ষা করা সালেমুন নেছার (৭০) পাশে দাঁড়ালেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিম। সালেমুন নেছাকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি চাল-ডাল ও তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দিয়েছেন ইউএনও। একই সঙ্গে তার জন্য বয়স্ক ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় তাকে একটি ঘর করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার (১৫ জুলাই) সালেমুন নেছাকে আর্থিক সহায়তা দেন ইউএনও রেজাউল করিম ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান। চাল-ডাল ও তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেয়ার পাশাপাশি এই বৃদ্ধাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়া হয়।

এর আগে সকালে বৃদ্ধা সালেমুন নেছাকে উপজেলা পরিষদে ডেকে আনা হয়। এ সময় তার হাতে খাদ্যসামগ্রী ও বয়স্ক ভাতার কার্ড তুলে দেয়া হয়। পাশাপাশি তাকে একটি সরকারি ঘর করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় উপজেলা প্রশাসন। সহযোগিতা পেয়ে কেঁদে ফেলেন বৃদ্ধা সালেমুন নেছা। সেই সঙ্গে তিনি অঙ্গীকার করেন আর ভিক্ষা করবেন না।

দ্রুত সময়ের মধ্যে বৃদ্ধা সালেমুন নেছার পাশে দাঁড়ানোর জন্য ইউএনও ও উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে বৃদ্ধাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি সরকারি ঘর নির্মাণ করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে বৃদ্ধা সালেমুন নেছা সম্পর্কে খবর নিই। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা ও সহায়তা দিয়েছি। তাকে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিম বলেন, বুধবার সালেমুন নেছাকে আমরা উপজেলা পরিষদে ডেকে এনেছি। সেই সঙ্গে তাকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি চাল-ডাল ও তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দিয়েছি। একই সঙ্গে তাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দিয়েছি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় তাকে একটি ঘর করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।

গত বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) সকালে হালুয়াঘাট উপজেলার হালুয়াঘাট বাজারে ভিক্ষা করতে আসেন বৃদ্ধা সালেমুন নেছা। তখন বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে বাজারের সব মানুষ দৌড়ে বিভিন্ন দোকানে আশ্রয় নেন। এ সময় বৃদ্ধা সালেমুন নেছা রাস্তার পাশে বসে বৃষ্টিতে ভিজছিলেন। আশপাশের লোকজন এমন দৃশ্য দেখে চোখের পানি ফেলেছেন। দীর্ঘক্ষণ বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট কাদা-পানিতে একাকার হয়েছিল। ঘণ্টাব্যাপী রাস্তায় বসেছিলেন ওই বৃদ্ধা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এই বিভাগের আরো খবর
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: