করোনা নিয়ে ভয়াবহ তথ্য দিল ইতালির বিজ্ঞানীরা

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ কিভাবে ছড়িয়েছে তা উদঘাটন করতে চেষ্টা করছে ইতালি। এজন্য দেশটির কর্তৃপক্ষ বর্জ্যের পানির ৪০টি নমুনা পরীক্ষা করেছে। এতে বর্জ্যের পানিতে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পেয়েছে দেশটি। পানিতে করোনাভাইরাস ছড়ানো এই মহামারির মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য।

ইতালির ন্যাশনাল হেলথ ইনিষ্টিটিউট এর পানির প্রধান মান নিয়ন্ত্রক এক্সপার্ট জুসেপিনা লা রোজা গত বছরের থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মধ্যে মিলান ও তুরিনে থেকে ৪০টি স্থানের বর্জ্য পানির নমুনা সংগ্রহ করেন। নমুনাগুলি মিলানের একটি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। সেখানে জলে ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য বলনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষায়ও করোনা ধরা পড়ে।

বেশকিছু শ্রেণির ভাইরাসের মধ্যে সার্সকোভি-২ একটি, যা ইতালিতে বহু সংক্রমণ ঘটিয়েছে। ভাইরাসটির জেনেটিকস ট্রেস আবিষ্কার করেছিল ইতালির স্টেট ইউনিভার্সিটি অব মিলান ও সাক্কো হাসপাতাল। প্রতিষেধক আবিষ্কারের পরও শীতকালে ইতালির অনেক মানুষ প্রতি বছর এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। ঔষধ থাকায় সমস্যায় পড়তে হয় না। তবে পানিতে ভাইরাসটি উপস্থিতি গবেষকদের শঙ্কিত হন। দুইটি গবেষণা দলের রিপোর্টে ভাইরাসটি করোনা গোত্রের সার্সকোভি-২ বলে উল্লেখ আছে।

চীন থেকে আসা এক চাইনিজ দম্পতির শরীরে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে রাজধানী রোমে কোভিট-১৯ ইতালিতে প্রথম ধরা পরে। এছাড়া লুম্বারদিয়া কোড্ডন শহরে যে ইতালিয়ানের শরীরে প্রথম কোভিট-১৯ ধরা পড়ে। সে চীন থেকে সদ্য ইতালি ফেরা একজন চাইনিজের সঙ্গে বসে খাবার খেয়েছিল।

এদিকে বার্সোলোনার বর্জ্যের পানিতে ভাইরাসের উপস্থিতি বুঝতে পারেন গবেষকরা। অন্যদিকে ফ্রান্সের হাসপাতালে নিউমোনিয়ার নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে গবেষকরা করোনার উপস্থিতি নিশ্চিত হন।

সকল তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ যৌথভাবে গত ১৯শে মার্চ জলে করোনা ভাইরাস নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রদান করে। ইউরোপ জুড়ে এই ভাইরাসটি সার্স কোভি-২ বলে উল্লেখ করে।

বর্তমানে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সংবাদ মাধ্যমে গত বছরের শেষদিকে ইউরোপের বিভিন্ন বর্জ্য জলে যে ভাইরাসটির উপস্থিতি টের পেয়েছিল তা সম্ভাব্য করোনা বলে উল্লেখ করছেন।যদিও কোভিট ১৯ এর আচরণিক সাদৃশ্য খুবই কম এর মধ্যে। করোনা ভাইরাসের বাইরের আবরণটি প্রোটিন দিয়ে তৈরি। সার্স কোভিট-২ ও কোভিড-১৯ এর গঠন একই উপাদানের কিন্তু কোভিড-১৯ আকারে কিছুটা বড়।

কোভিড-১৯ এর এর তিনটি উপাদান ট্রেস করার সময় সার্সকোভি-২ এর মতো আলাদা করা যায়, এই ট্রেস দিয়ে জিনগত পার্থক্য নির্ধারণ করে টিকা আবিষ্কার করা যায় । কিন্তু কোভিড-১৯ এর প্রোটিনটি আলাদা করার কিছুক্ষণের মধ্যে তা আবার একত্রিত হয়ে যায়। আর এই জন্যই কোভিড-১৯ এর স্থায়ী ঔষধ এখনো বিজ্ঞান আবিষ্কার করতে সক্ষম হননি বিজ্ঞানীরা। তিনটি উপাদানের মধ্যে দুটি আলাদা হয় সব সময়ের জন্য কিন্তু তৃতীয়টি ট্রেস হতে বের হয়ে যায় আর এই জন্যই বলা হয় কোভিড-১৯ এর চিকিৎসার সফলতা ৭০ শতাংশের মতো আর ৩০ শতাংশ এখনো অধরাই রয়ে গেছে!!

কোভিড-১৯ বিভিন্ন পরিবেশে ২ ঘণ্টা হতে ৯ দিন পর্যন্ত বাঁচতে সক্ষম। বর্জ্য জলে যে সোডিয়াম, ইথানল ও হাইপো ক্লোরিট ব্যবহার হয় তা ভাইরাস ধ্বংস করতে সক্ষম। খাবার পানিতে কেন্দ্রীয়ভাবে ক্লোরিন ০.৫ মাত্রায় ব্যবহার করলে যেকোন ধরনের ভাইরাস/ ব্যাকটিরিয়া মুক্ত হয়।

ইতালির জল ও স্বাস্থ্যের গুণমানের স্বাস্থ্য ইনষ্টিটিউট বিভাগের এর নেতৃত্বদানকারী লুকা লুসেস্থিনি বলেন, ইতালি গবেষণা করে তথ্য আবিষ্কার করার অর্থ এই নয় যে, ইতালি হতে কোভিড-১৯ এর প্রথম বিস্তার ঘটেছিল। আমরা কেবল ইতালিতে ভাইরাসটির সকল স্তরের অবস্থান তুলে ধরছি যা আমাদের নিজেদের ও বিশ্বের সকল গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করবে। এধরনের মহামারি ভাইরাসকে নিয়ে যারা লুকোচুরি করবে তাদের ক্ষতি হবে সবচেয়ে বেশী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এই বিভাগের আরো খবর
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: