করোনায় মৃতকে গোসল করানো সেই ইউএনও ত্রাণের বরাদ্ধ মেরেছেন!

করোনায় মৃতকে গোসল করানো সেই ইউএনও ত্রাণের বরাদ্ধ মেরেছেন!

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন করোনায় মৃত এক নারীকে গোসল করিয়ে বেশ আলোচনার জন্ম দেন। তার এই মানবিক কাজের প্রশংসা করেছিল সবাই। কিন্তু এবার সেই করোনায় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য সরকারি ত্রাণসামগ্রী ক্রয় করতে বরাদ্ধ দেওয়া ১১ লাখ ৭৮ হাজার টাকার কোনো হিসাব দিতে পারছেন না।

একইসাথে করোনাকালে ২ হাজার ৫৮৪টি শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করার কথা থাকলেও করা হয়েছে ৭০০ প্যাকেট। ত্রাণ বিতরনের অফিস ফাইল নোটে ৩৬৪ প্যাকেট করে বিতরণে দেখানো হয়েছে। প্রতি ইউপি চেয়ারম্যানরা বরাদ্ধ পেয়েছেন ১০০ প্যাকেট করে। রেজিস্টার ও ফাইল নোটের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক গড়মিল।

সূত্র জানায়, করোনা ও বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ নিম্ন আয়ের মানুষদের সহায়তা দেওয়ার জন্য উপেজলায় চলতি বছরের ৮ জুন ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয় সরকার। তবে এখন পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ৬৭ হাজার ৩০০ টাকার ত্রাণ।

উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে ৩৬৪ করে মোট ২ হাজার ৫৮৪ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণের কথা থাকলেও বিতরণ হয়েছে ১০০টি করে। প্রতিটি প্যাকেটের মূল্য ধরা হয়েছে ৬৭৩ টাকা। শুকনা খাবারের প্যাকেটগুলো সরবরাহ করেছে মেসার্স শাহানা ভ্যারাইটিজ স্টোরের স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম। প্রতি প্যাকেটে ছিল সাত কেজি চাল, আধাকেজি লবণ, এককেজি চিনি, এককেজি ডাল, ১০ টাকা মূল্যের একটি সাবান।

এদিকে মালামাল কেনার ক্ষেত্রে কোনো পিপিআর নিয়মনীতি মানা হয়নি। শুকনা খাবারের যে মাস্টার রোল করা হয়েছে তাতে ইজিপিপির লেবারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের এক কর্মচারি জানান, অফিস ফাইল নোটে প্রতিটি ইউনিয়নে ৩৬৪টি শুকনা খাবারের প্যাকেট বিতরণের কথা থাকলেও বাস্তবে ইউপি চেয়ারম্যানরা তাদের মালামাল বুঝিয়ে পাওয়া রেজিস্টারে ১০০ প্যাকেটের কথা উল্লেখ করেছেন। সে মোতাবেক ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ১০ লাখ ৬৩ হাজার টাকার হিসাব মিলছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আয়েশা সিদ্দিকার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি করোনার সময়ের। তখন তিনি অন্য উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। তবে অফিসের ফাইল নোট ও বিতরণ রেজিস্টারের গরমিলের কথা তিনি স্বীকার করেন।

একটি সূত্র থেকে জানা যায়, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে গত ২৬ জুলাই সোনাতলা উপজেলায় আরও ৩ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। এর মধ্যে গত ১৮ আগস্ট ব্যাংক থেকে দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করেন ইউএনও। যা দিয়ে ক্রয় করা হয় আরও ৫০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট। প্রতিটার মূল্য ধরা হয়েছে ৭০০ টাকা। ৫০ প্যাকেটে ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় হলেও দেড় লাখ টাকার মধ্যে অবশিষ্ট দেখানো হয়েছে ১৫ হাজার টাকা।

জানতে চাইলে তৎকালীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) সারওয়ার আলম বলেন, এ ধরনের গরমিল লক্ষ্য করার পর তিনি মাস্টার রোলে সই করেননি। মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি কোনো নিয়মনীতি মানা হয়নি।

এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানদের শুকনা খাবার বিতরণের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ কর্মহীন ও গুচ্ছ আবাসনবাসীদের মধ্যে এ ধরনের শুকনা খাবার ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এ ধরনের (অনিয়ম) কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি তার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র।

শেয়ার করুন