Breaking News

কন্যা সন্তান হওয়ায় হাসপাতা’লে ফেলে পালিয়েছে বাবা-মা

পৃথিবীর আলোর মুখ দেখতেই নিম’র্ম এক নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছে শি’শুটি। মা-বাবার ভালোবাসা-আবেগ-অনুভূতি কোনো কিছুই স্প’র্শ করতে পারেনি শি’শুকে। কন্যা হয়ে জন্ম নেওয়াই ছিল শি’শুটির বড় অ’প’রাধ। এ কারণে উত্তরের বয়ে যাওয়া প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহে শীতের রাতের অন্ধকারে শি’শুটি হাসপাতা’লে ফেলে পালিয়ে যায় তার নিষ্ঠুর মা-বাবা। ম’র্মা’ন্তিক ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার মধ্যরাতে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

আজ বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি শি’শুটিকে উ’দ্ধার করে নিয়ে যান হাসপাতা’লের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। খবর পেয়ে অনেক নিঃসন্তান দম্পত্তি শি’শুটি দত্তক নেওয়ার জন্য কাড়াকাড়ি করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে শি’শুটি বদরগঞ্জ উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচ্ছন্নতাকর্মী জোবেদা বেগমের বাড়িতে রয়েছে।

শি’শুটির বাবার নাম প্রদীপ বিশ্বা’স। তার বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজে’লার পলা’শবাড়ী ইউনিয়নের ধোবাকল গ্রামে।

স্বজন, এলাকাবাসী ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ধোবাকল গ্রামের নিরাপদ বিশ্বা’সের ছে’লে প্রদীপ বিশ্বা’স তার গর্ভবতী স্ত্রী’ পল্লবীকে নিয়ে বুধবার বদরগঞ্জ উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। ওই দিন পল্লবীকে হাসপাতা’লে ভর্তি করা হয়। রাতে স্বাভাবিকভাবে পল্লবী একটি ফুটফুটে সন্তান জন্ম দেন। যখন তারা জানতে পারেন সন্তানটি ছে’লে নয়, মে’য়ে হয়েছে। এতে পাষণ্ড মা-বাবার মা’থায় চিন্তার ভাজ পড়ে। আনন্দের পরিবর্তে নেমে আসে বিষাদ। ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শি’শুটির বাবা প্রদীপ বিশ্বা’স। আগে তাদের ঘরে পপি রানী (৯) ও দীপা (৫) নামে আরও দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এবারে তাদের আশা ছিল ঘর আলো করে ছে’লে সন্তানের জন্ম দেবে পল্লবী। কিন্তু কন্যা সন্তান জন্ম হওয়ায় হতাশায় ভেঙে পড়েন তারা। তিন কন্যা সন্তান নিয়ে কী’ করবে এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে শুরু হয় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। এক পর্যায়ে বাকবিতণ্ডা শুরু করেন তারা। বিষয়টি জানতে পারেন হাসপাতা’লের পরিচ্ছন্নতাকর্মী জোবেদা বেগম। এক পর্যায়ে কনকনে ঠাণ্ডায় রাতের কোন এক সময় ছাড়পত্র না নিয়ে পল্লবী সন্তানটিকে হাসপাতা’লের বিছানায় ফেলে পালিয়ে যান। পরে শি’শুটি নিয়ে যান জোবেদা বেগম।

বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) সদ্যজাত সন্তান ও তার মাকে খুঁজে না পাওয়ায় ঘটনাটি প্রকাশ হয়ে পড়ে। ঘটনাটি জানাজানি হলে শি’শুটিকে সন্তান দত্তক নেওয়ার জন্য কাড়াকাড়ি শুরু হয়। ভীড় বাড়ে হাসপাতাল চত্ত্বরের ভেতরে জোবেদার বাড়িতে।

জোবেদা বেগম বলেন, শি’শুটি নিজের সন্তান মনে করে নিয়েছি। ইতিমধ্যে ওর জন্যে আম’রা শীতের অনেক জামা কাপড় কিনেছি। পরম যত্নে আর মায়া মমতায় আম’রা শি’শুটি বড় করে তুলতে চাই। আমা’র ছোট বোন মোমেনার বুকের দুধ খাচ্ছে শি’শুটি। এখন অনেকেই এসে ভীড় করছে বাড়িতে। আবার অনেকেই আমা’র কাছ থেকে দত্তক নিতে চাইছে।

শি’শুটির বাবা প্রদীপ বিশ্বা’সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি পথে-ঘাটে ঝালমুড়ি বিক্রি করে অ’তিক’ষ্টে সংসার চালাই। আমা’র আগের আরও দুটি মে’য়ে আছে। তাদের ভরণ-পোষণ দিতে পারছি না। এবার আশা ছিল ছে’লে হবে। কিন্তু সেই আশা পূরণ হলো না। এ কারণে একজন হিন্দু পরিবারকে শি’শুটিকে দত্তক দিতে চেয়েছি। কিন্তু হাসপাতা’লের স্টাফ শি’শুটি নিতে চাইলে রাতে তাকে দিয়ে চলে যাই।

বদরগঞ্জ উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক চিকিৎসা কর্মক’র্তা ডা. নাজমুল হোসাইন বলেন, আম’রা শি’শুটিকে উ’দ্ধার করে তার বাবার কাছে ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমা’র জানা মতে আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া দত্তক নেওয়া যায় না।

বদরগঞ্জ উপজে’লা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মক’র্তা ডা. আরশাদ হোসেন বলেন, স্বাভাবিকভাবে শি’শুটির জন্ম হয়েছে। সকালের দিকে দেখা যায় হাসপাতা’লে শি’শু আছে কিন্তু তার মা নেই। রাতের কোন এক সময় প্রসূতি ওই মা পালিয়ে যায়।

শেয়ার করুন

Check Also

উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়লো সেতু

সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর সড়কের কোন্দানালা খালের ওপর একটি নির্মাণাধীন সেতু উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে। সোমবার (১ মা’র্চ) …