এবার সীমান্তে ভারতের বাঁধ নির্মাণে বাধা দিলো নেপাল

ভারতের সঙ্গে নিজেদের মানচিত্রে নতুনভাবে প্রকাশের চার দিনের মাথায় বিহার-নেপাল সীমান্তে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নির্মাণাধীন নদীভাঙন রোধে বাঁধ প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে নেপাল। নেপালের দাবি করা ওই এলাকাটি ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন। সোমবার (২২ জুন) একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

এক প্রতিবেদনে ভারতীয় গণমাধ্যম এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) জানিয়েছে, ভারতের নিম্নাঞ্চলকে প্লাবনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নির্মাণাধীন বাঁধের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ এনেছে বিহারের রাজ্য সরকার।

এর মাত্র চার দিন আগে নেপালের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ দেশটির নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র অনুমোদন দেয়, যা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। নতুন মানচিত্রে ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিবাদমান লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরা এলাকাকে নিজেদের হিসেবে চিহ্নিত করে নেপাল। তবে এসব নাকচ করে দিয়ে ভারত বলেছে, নেপালের এমন দাবির কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি কিংবা প্রমাণ নেই।

উল্লেখ্য, লালবাকেয়া নদীতে নির্মাণাধীন বাঁধের কাজ বন্ধে নেপালের সীমান্তরক্ষী বাহিনী গুলি চালায়। এতে এক ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়। তবে দু’দেশের সরকারই বিষয়টিকে আর সামনে এগোতে দেয়নি।

লালবাকেয়া নদীর উৎপত্তি নেপালে। এটি ভারত-নেপাল সীমান্ত হয়ে বিহারের সিতামার্হি জেলার বাগমাতি নদীতে পতিত হয়েছে। প্রতিবছর নেপালের অতিবৃষ্টি বিহারের পূর্বাঞ্চলীয় জেলা চম্পারান ও সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে।

প্রসঙ্গত, নেপালের সঙ্গে বিহারের মাধ্যমে ৭২৯ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমারেখা রয়েছে ভারতের। ওই নদীতে বাঁধ নির্মাণ করছে ভারত। প্রতিবছরই বর্ষার আগে সেখানে সুরক্ষা কাজ চালায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

বিহারের পানিসম্পদ মন্ত্রী সঞ্জয় কুমার ঝা সোমবার বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তার সরকার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবে এবং উদ্ভূত আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির কথাও ব্যাখ্যা করা হবে।

সঞ্জয় কুমারের মতে, নেপালের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপত্তি আগে শোনেননি তারা। নেপাল কর্তৃপক্ষের এমন আচরণ এবারই প্রথম।

একইভাবে বিহারের পূর্ব চাম্পারান জেলার লালবাকেয়া নদীর ওপর ২০ বছর আগে নির্মাণ করা বাঁধের মেরামত কাজেও বাধা দিয়েছে নেপাল। এমন এক সময় এই ঘটনাটি ঘটল যখন লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে (চীন-ভারত সীমান্ত) সৃষ্ট বিবাদে মৃত্যু হয়েছে ২০ ভারতীয় সেনার।

শেয়ার করুন