ইসলামের দৃষ্টিতে বর-কনের ব’য়সের পার্থক্য কতো হওয়া উচিৎ?

বর্তমানে মানুষ মে’য়েদের অধিকারের ব্যাপারে অত্যন্ত অবহেলা করে। যেমন, বাচ্চা মে’য়ের বিয়ে ব’য়স্ক পুরু’ষের স’ঙ্গে দেয়া। যার প’রিণতি হলো স্বা’মী যদি মা’রা যায় তাহলে মে’য়ের চরিত্র ন’ষ্ট হয়। আবার কোথাও এই অবিচার হয়, ছোটো ছেলের স’ঙ্গে যুবতি মে’য়ের বিয়ে দেয়। এখানে একটি বিয়ে হয়েছে বর ছোটো আর কণে ব’য়স্ক।

দুইজনের ব’য়সের পার্থক্য এতো যদি ম’হিলার প্রথম স’ন্তান ছেলে হতো তাহলে বর তার সমব’য়সী হতো। আমি এমনটা অপছন্দ করি। এই অপছন্দ ওয়াজিব বা হারামের পর্যায় নয়। বরং অপছন্দ স্বভাবসূলভ এবং বিবেকের। ব’য়সের সমতা হলে স্বা’মী-স্ত্রী প’রস্পরের মাঝে আন্তরিকতা সৃষ্টি হয়। [দাওয়াতে আবদিয়্যাত আজলুল জাহিলিয়্যাত, পৃষ্ঠা-৩৫৬।]

স্বা’মী-স্ত্রীর ব’য়সের সমতা শরিয়তের বিধান : স্বা’মী-স্ত্রীর ব’য়সের সমতা র’ক্ষা করা আবশ্যক। ব’য়স স্বা’মী-স্ত্রীর মাঝে আচরণগত (স্বভাব ও দৈহিক) বি’ষয়। এক প্রকার শরয়ী বি’ষয়ও বটে। এ ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধানও লক্ষ্যণীয়।

কুরআন শরীফে ইরশাদ হয়েছে, قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ أَتْرَابٌ অর্থাৎ জান্নাতে হুরগণ (জান্নাতের রমণী) সমব’য়সী হবে।অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, أَنشَأْنَاهُنَّ إِنشَاء فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا عُرُبًا أَتْرَابًا আমি জান্নাতী না’রীকে উত্তমরূপে সৃষ্টি করেছি। অতপর তাদেরকে করেছি চিরকুমা’রী। কামিনী সমব’য়স্কা।

ব’য়সের ব্যবধানে দূ’রত্ব সৃষ্টি হয়। আমি লক্ষ্য করেছি, বাচ্চাদের স’ঙ্গে বাচ্চাদের যেমন আন্তরিকতা হয় বড়দের স’ঙ্গে তেমন হয় না। হজরত ফাতেমা রা. এর বিয়ের প্রস্তাব সর্ব প্রথম হজরত আবু বকর রা. দেন। অতপর হজরত ওমর রা. প্রস্তাব দেন। কারণ, এটুকু যোগ্যতা ও সম্মান তাঁদের অর্জিত ছিলো।

তাঁদের কন্যাদ্বয় রাসুলুল্লাহসাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সম্মাণিতা স্ত্রী ছিলেন। এখন তারা রাসুলুল্লাহসাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জামাতা সম্মান অর্জন করবেন। রাসুলুল্লাহসাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, انها لصغيرة সে অনেক ছোট। তাঁদের ব’য়স অনেক বেশি ছিলো। রাসুলুল্লাহসাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব’য়সের কথা বিবেচনা করে তাঁদের আবেদন নাকচ করে দেন।

হজরত ফাতেমা রা. এর বিয়ের ঘ’টনা উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো, হজরত শায়খাইন রা. (আবু বকর ও ওমর) এর স’ঙ্গে বিয়ে দিতে রাসুলুল্লাহসাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আপত্তি ছিলো সে ছোট। বাচ্চা।

এর থেকে বুঝা গেলো মে’য়ের ব’য়স কম হলে স্বা’মীর ব’য়স বেশি হওয়া উচিৎ নয়। ব’য়সের অসমতায় বিয়ে দেয়াও ঠিক নয়। [দাওয়াতে আবদিয়্যাত আজলুল জাহিলিয়্যাত।]

হজরত ফাতেমা [রা.] -এর বিয়ের সময় ব’য়স ছিলো সাড়ে পনেরো বছর। হজরত আলী রা. ব’য়স ছিলো একুশ বছর। এর থেকে জা’না যায়, বর-কণের ব’য়সের সমতা ঠিক রাখা উচিৎ। উত্তম হলো সমব’য়সী স্বা’মী সমব’য়সী স্ত্রী থেকে একটু বড় হবে। জ্ঞানীগণ বলেন, মে’য়ে যদি একটু ছোট হয় তাহলে স’মস্যা নেই।

র’হস্য হলো না’রী অধীনস্থ হয় এবং কর্তৃত্বকারী। তাছাড়াও না’রীর শা’রীরিক শ’ক্তি ও সামর্থ থাকে দু’র্বল। ফলে সে আগে বৃ’দ্ধা হয়ে যায়। যদি দুই-চার বছরের পার্থক্য থাকে তাহলে সমতা আসে। [হুকুকুল জাওযাইন, পৃষ্ঠা-৩৭০।]

শেয়ার করুন