আবার হেফাজতের স’ঙ্গে সমঝোতার উদ্যো’গ?

২৬-২৭ মা’র্চে হেফাজতের তা’ণ্ডবের তিন দিন অতিবাহিত হলো। এখন পর্যন্ত এই তা’ণ্ডবের মূল হোতাদের গ্রেফতার করা হয়নি। জুনায়েদ বাবুনগরী বা মামুনুলরা বহাল তবিয়তে আছেন। হেফাজতের শী’র্ষ নেতাদের গায়ে আঁচড় প’ড়েনি। সরকারের অন্যতম সহযোগী ১৪ দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে হেফাজতের বি’রুদ্ধে ক’ঠোর হতে হবে। বিভিন্ন মহল থেকে হেফাজতের বি’রুদ্ধে ক’ঠোর হওয়ার দা’বি উঠলেও এখন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আ’ইন প্রয়োগকারী সংস্থা হেফাজতের কোনো নেতাকে গ্রেফতার করেনি, আ’ইনের আওতায় আনেনি। সরকার বায়তুল মোকররমের ঘ’টনায় মা’মলা করেছে, ব্রাক্ষণবাড়িয়ার ঘ’টনায় নিয়ে তদ’ন্ত কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের ধীরে চলা নীতি বিভিন্ন মহলে বিস্ময় সৃষ্টি করছে।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, হেফাজতের সাথে ক’ঠোর অব’স্থায় নয় বরং আবার নতুন করে সমঝোতার উদ্যো’গ নিচ্ছে সরকারের একটি অংশ। তবে এই উদ্যো’গে রাষ্ট্রের সর্বো’চ্চ নীতিনির্ধারক মহলের সম্মতি আছে কি না সে ব্যাপারে নি’শ্চিত হওয়া যায়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে ঘিরে হেফাজত সারাদেশে তা’ণ্ডব শুরু করার চেষ্টা করে, তারা যেকোনো মূল্যে এই সফর বা’তিলের দা’বি জা’নায়। সেসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণলায়ের পক্ষ থেকে সমঝোতার উদ্যো’গ নেয়া হয় এবং এ ব্যাপারে বৈঠকও করা হয়েছিলো। তখন তারা বলেছিলো তারা বড় ধ’রনের কোনো ঘ’টনা ঘটাবে না নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময়। কিন্তু তারা কথা রাখেনি। বরং ২৬ মা’র্চে নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তারা নজিরবিহীন তা’ণ্ডব চালায়। যে তা’ণ্ডবকে একমাত্র একাত্তরের স’ঙ্গে ই তুলনা করা যায়। এরপর থেকে সাধারণ বিবেকবাণ মানুষ মনে করেছিলো সরকারের হয়তো বোধদয় হবে এবং হেফাজতের স’ঙ্গে যে সমঝোতা বা আপোস আপোস খেলা সেটি থেকে সরকার সরে আসবে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকা ঘেড়াওয়ের নামে ব্যা’পক তা’ণ্ডব চালায়। সেসময় সরকার সাহসিকতার স’ঙ্গে প’রিস্থিতি মো’কাবেলা করে কিন্তু তার পরেই যেন দৃ’শ্যপট পাল্টাতে থাকে। হেফাজতের স’ঙ্গে এক ধ’রনের গো’পন সমঝোতা হয় এবং সেই সমঝোতায় ৫ মে তা’ণ্ডবে যে সমস্ত হেফাজত নেতাদের বি’রুদ্ধে মা’মলা হয়েছিল সেগুলো হিমাগারে চলে যায়। এরপর আস্তে আস্তে হেফাজতের স’ঙ্গে সরকারের সখ্যতা দৃ’শ্যমান হতে থাকে। হেফাজত দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তন করে এবং সরকার ওই চা’পের কাছে নতি স্বী’কার করে পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তন করে। এরপর হেফাজত বিভিন্ন স্থানে ভাস্কর্যের বিরো’ধীতা করে এবং সরকার একরকম নতি স্বী’কার করেই সরিয়ে ফে’লে ।

আল্লামা শফীর মৃ’ত্যুর পর হেফাজতের নেতৃত্বে পরিবর্তন হয়। উগ্রবাদীরা হেফাজতের নেতৃত্ব গ্রহণ করে। জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের আমীর হওয়ার পর পরই বঙ্গব’ন্ধুর ভাস্কর্যের বি’রুদ্ধে রীতিমতো যু’দ্ধ ঘো’ষণা করে। সে সময় দেশের বিভিন্ন মহল থেকে এর প্রতিবাদ করা হয়েছিলো এবং একটি রাজনৈতিক প্র’তিরো’ধ গড়ে তোলার উদ্যো’গ নেয়া হয়েছিলো। কিন্তু আচ’মকাই দৃ’শ্যপটের পরিবর্তন ঘ’টে। সরকারের ভেতরে কে বা কারা হেফাজতের স’ঙ্গে আবার নতুন করে সমঝোতা করে। এরপর ভাস্কর্য ইস্যু যেন থেমে যায়। বঙ্গব’ন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে সরকারের মধ্যে নতুন কোনো উদ্যো’গ চোখে প’ড়ে না। সর্বশেষ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর নিয়ে হেফাজত আরেকবার হু’মকি দেয় সরকারকে।

বিভিন্ন মহল বলছে যে হেফাজত কখনও আওয়ামী লীগের ব’ন্ধু হতে পারে না এবং হেফাজতের মূল লক্ষ্যই হলো স্বাধীনতার বিরো’ধীতা এবং বাংলাদেশকে মু’ক্তিযু’দ্ধের চেতনার উল্টো পথে নিয়ে যাওয়া। তারপরও হেফাজতের স’ঙ্গে বার বার কারা সমঝোতা করছে সে নিয়ে সরকারের মধ্যে বিভিন্ন মহল বিস্ময় প্র’কাশ করেছে।

বিভিন্ন সূত্র বলছে, সরকার যা হয়ে গেছে অব’স্থান থেকে হেফাজতের স’ঙ্গে একটি সমঝোতা লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। খুব গো’পনে হেফাজতের কারও কারও স’ঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে হেফাজত তার ক’র্মসূচি থেকে সরে আসবে। সরকারও এইসব বিষয় নিয়ে আর আগাবে না এরকম একটি সমঝোতার কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এরকম সমঝোতা সরকারের জন্য ইতিবাচক হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সরকারের মধ্যেই।

শেয়ার করুন