আফগানদের কাঁদিয়ে বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়

আফগানদের কাঁদিয়ে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ৪ উইকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে এক রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। আজ বুধবার সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ২১৬ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে আফগানরা। ‘সাগরিকা’খ্যাত চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। ৪৯.১ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে সফরকারী দল জড়ো করেছে ২১৫ রান। জবাবে ৪৫ রানে মধ্যে ৬ উইকেট হারালেও আফিফ হোসেন ও মেহেদি মিরাজের ব্যাটে ভর করে অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

২১৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নিজেদের ইনিংসের তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস। ফজল হক ফারুকির লেন্থ বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। শুরুতে আম্পায়ার সাড়া দেয়নি। আফগানিস্তান রিভিউ নিলে ফল তাদের পক্ষে যায়। মাত্র ১ রান করেন লিটন। লিটন দাসের পর একই ওভারে বিদায় নেন তামিম ইকবাল। লিটনের বিদায়ের ১ বল পর এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন টাইগার অধিনায়ক তামিম। প্রথমে আম্পায়ার আউট দেননি। রিভিউ নিলে এটিও পক্ষে যায় আফগানিস্তানের। তিনি ৮ বলে ৮ রান করেন।

তামিম-লিটনের বিদায়ের পর শুরুতেই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেই চাপ আরও বেড়ে যায় মুশফিকুর রহিম আউটে। মুশফিকুর রহিমকেও সাজঘরে ফেরান ফজল হক ফারুকি। আউট হবার আগে ৫ বলে ৩ রান করেন। পাঁচ ওভার শেষ না হতেই তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে টাইগার বাহিনী। এরপর রানের খাতা খোলার আগেই বোল্ড হন অভিষিক্ত ইয়াসির আলী রাব্বি। ফজল হক ফারুকির লেন্থ বল বুঝতেই পারেননি ইয়াসির। ফ্লিক করতে চেয়েছিলেন, বল ব্যাট মিস করে উড়িয়ে দেয় স্ট্যাম্প। মাত্র ১৮ রানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মুজিব উর রহমানের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে বোল্ড হলেন সাকিব আল হাসান। ১৫ বলে ১০ রান করেন তিনি।

বোলিং করতে এসেই সাফল্য পেয়ে যান রশিদ খান। দ্বিতীয় বলে তিনি ফেরান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। ৮ রান করে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। এরপর ক্রিজে আফিফ হোসেনের সঙ্গী হন মেহেদি হাসান মিরাজ। এটিই ছিল বাংলাদেশের শেষ ভরসার জুটি। মূলত স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আফিফ হোসেন ধ্রুব-মেহেদি হাসান মিরাজ। সপ্তম উইকেটের জুটিতে রেকর্ড গড়েন আফিফ হোসেন ধ্রুব ও মেহেদি হাসান মিরাজ।

দুইজনে যোগ করেন রান। ওয়ানডে ইতিহাসে সপ্তম উইকেটে বাংলাদেশের এটি সর্বোচ্চ জুটি। এর আগে ১২৭ রান ছিল ইমরুল কায়েস-সাইফ উদ্দিনের। তারা ২০১৮ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই জুটি গড়েছিলেন। আজ তাদের পেরিয়ে গেছেন আফিফ-মিরাজ। দুইজনের এই জুটিতে জয়ের হাসি হেসেছে বাংলাদেশ। আফিফ হোসেন ধ্রুব ১১৫ বলে ৯৩ রান ও মেহেদি হাসান মিরাজ ১২০ বলে ৮১ রান করে অপরাজিত ছিলেন।আফিফ ৯৩ ও মিরাজ ৮৩ রানে অপরাজিত থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.