আপত্তিকর অবস্থায় দেখার পর বাবা-মামা মিলে মেয়েকে হত্যা

নিখোঁজের চারদিন পর উদ্ধার হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে লাইজু বেগম (১৬) নামে এক তরুণী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত নিহতের বাবা সনু মিয়া, ভাই আদম আলী ও মামা মাজু মিয়াকে গ্রেফতারের পরই রহস্য উদঘাটন হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নিহত লাইজুর মামা মাজু মিয়া ও ভাই আদম আলী জানিয়েছে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লাইজুর বাবা সনু মিয়া, ভাই আদম আলী ও মামা মাজু মিয়া লাইজুকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

ঘটনার কারণ হিসেবে পুলিশ জানায়, কিশোরী লাইজু আক্তার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল গ্রামেই তাদের বাড়ির পাশে তার মামার বাড়িতে থাকতেন। গত ২২ জুন দুপুরে লাইজুকে বাড়ির পাশে পাটক্ষেতে এক যুবকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন মামা মাজু মিয়া।

বিষয়টি লাইজুর বাবা সনু মিয়া ও মা সাফিয়া আক্তারকে জানান মাজু। এ ঘটনায় বাবা সনু মিয়া ক্ষিপ্ত হন। পরদিন ২৩ জুন সকালে সনু মিয়া ও মাজু মিয়া লাইজুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৩ জুন রাত সাড়ে ১০টার দিকে সনু মিয়া তার কন্যা লাইজুকে মামার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসেন। পরে লাইজুকে তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বাবা সনু মিয়া, মামা মাজু মিয়া লাইজুর ভাই আদম আলী। পরে তারা তার লাশ স্থানীয় একটি ডোবায় ফেলে দেন।

গত শনিবার (২৭ জুন) সকালে ধরমন্ডল গ্রামের লম্বাহাটি এলাকার একটি ডোবা থেকে লাইজুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় লাইজুর মা সাফিয়া আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) কবির হোসেন জানান, লাইজুর লাশ উদ্ধারের পর পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার কথা বলা হলেও প্রথমে তারা রাজি হয়নি। পরে তার মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এতে করে পরিবারের প্রতি পুলিশের সন্দেহ হয়। মূলত মামাকেই টার্গেট করা হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বাবা ও ভাইয়ের সম্পৃক্ততার কথা বেরিয়ে আসে।

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোজাম্মেল হোসেন রেজা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যা রহস্য উন্মোচন করেন।

পুলিশ গত রোববার লাইজুর মামা মাজু মিয়াকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যার দায় স্বীকার করেন। পরে তার তথ্যমতে সোমবার রাতে বাবা সনু মিয়াকে ও মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোরে একই গ্রাম থেকে ভাই আদম আলীকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার( ২৯ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আহমেদের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মামা মাজু মিয়া।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ভাই আদম আলী। ওসি কবির হোসেন আরও জানান, লাইজুর নামে কিশোরী মেয়েটি বেপরোয়া ভাবে চলাফেরা করতো। এলাকার একাধিক ছেলেদের সঙ্গে মেলামেশা করতো। সবশেষ আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে। এরপরই স্বজনেরা পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটায়।

শেয়ার করুন