‘আ’ত্মগো’পনের’ কথা বি’শ্বাস হচ্ছে না আবু ত্ব-হার মায়ের

আট দিন নিখোঁ’জের পর ফিরে আসা আলোচিত ধ’র্মীয় বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্ম’দ আদনানসহ তিনজনের জ’বানব’ন্দি নেওয়ার পর ‘নিজ জি’ম্মায়’ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে ৯টা থেকে পৌনে ১২টা পর্যন্ত ত্ব-হা এবং তার সফরস’ঙ্গী আবু মুহিত আনছারী ও গাড়িচালক আমির উদ্দিনের জ’বানব’ন্দি গ্রহণ করেন রংপুর মে’ট্রোপলিটন কোতয়ালি আমলি আ’দালত-৪ এর বি’চারক কে এম হাফিজুর রহমান।

এরপর নিজ জি’ম্মায় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়ার আ’দেশ দেওয়া হয়। এর আগে আবু ত্ব-হা মুহাম্ম’দ আদনান

নিখোঁ’জের ৮দিন পর বাড়িতে ফিরেছে আসেন। সে এতদিন ব্যক্তিগত কারণে আ’ত্মগো’পন করেছিল বলে পু’লিশকে জানিয়েছে।

আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান ব্যক্তিগত কারণে গাইবান্ধায় এক বন্ধুর বাড়িতে ‘আ’ত্মগো’পনে’ ছিলেন-এ কথা বি’শ্বাস করতে পারছেন না তার মা আজেদা বেগম ও বন্ধুরা।

গত আট দিন আপনার ছেলে কোথায় ছিল কিছু জানতে পেরেছেন কি না- প্রশ্নের জবাবে আবু ত্ব-হার মা আজেদা বেগম বলেন, ‘আমি জানি না। তবে আ’ত্মগো’পনে থাকার বিষয়টি বি’শ্বাস হচ্ছে না।’

আবু ত্ব-হা মুহাম্ম’দ আদনানের প্রকৃত নাম আফছানুল আদনান। বয়স ৩১। তার মা আজেদা বেগম। বাবা মৃ’ত রফিকুল ইসলাম। ছোট বোন রিতিকা রুবাইয়াত ইসলাম। আদনানের প্রথম স্ত্রী আবিদা নুর, তাদের সংসারে তিন বছরের একটি মে’য়ে ও দেড় বছর বয়সী একটি ছে’লে রয়েছে।

বাবা মা’রা যাওয়ার পর রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডে নানার বাড়িতে বড় হন আদনান। বিয়ের পর স্ত্রী-স’ন্তানদের নিয়ে নগরীর নিউ শালবন এলাকায় বসবাস করেন। কয়েক মাস আগে আদনান আরেকটি বিয়ে করেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহার সারা ঢাকার মিরপুর আল ইদফান ইসলামী গার্লস মা’দরাসার পরিচালক ও শিক্ষক।

তবে পরিবারের একটি সূত্র জানায় অন্য কথা। সূত্র জানায়, দ্বিতীয় স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের দিনই ত্ব-হার অবস্থান সম্পর্কে জানতো পরিবার। তার নি’রাপত্তার স্বার্থে এ কথা গো’পন করা হয়েছিল। ত্ব-হাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার

পর শুক্রবার রংপুর মে’ট্রোপলিটন পু’লিশের ক্রাইম ডিভিশনের উপ-পু’লিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ডিবি কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং করেন।

তিনি জানান, শুক্রবার বাড়িতে ফিরে আসার খবর পু’লিশ জানতে পেরে তাকে পু’লিশ হেফাজতে নেয়। রংপুর মে’ট্রোপলিটন ডিবি পু’লিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মক’র্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আবু ত্ব-হা মুহাম্ম’দ আদনান পারিবারিকভাবে ও মানসিক বি’ষাদগ্র’স্থ ছিলেন।

সে কারণে তিনি এতদিন আ’ত্মগো’পনে ছিলেন। অনুস’ন্ধানে জানা গেছে, নিখোঁ’জ আবু ত্ব-হা মোহাম্ম’দ আদনানের স’ন্ধান ও অবস্থান আরো আগেই জানতে পারেন তাদের পরিবার। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে তারা সেটা গোপন রাখতে চেয়েছেন।

ত্ব-হার পরিবারের এমন আ’চরণে নানা প্রশ্নের জ’ন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে ত্ব-হা কী আ’ত্মগো’পনে ছিলেন? তার পরিবারের সদস্যরা কি চান না তিনি কোথায় ছিলেন এটা সাধারণ মানুষ জানুক? কিংবা তার নিখোঁ’জের বিষয়টি কী পারিবারিক কোনো বি’রোধের কারণে?

এমন অনেক প্রশ্নের জ’ন্ম দিয়েছে আ’ইনশৃঙ্খলা বা’হিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষের মনে। ত্ব-হার স’ন্ধান যে আগেই তার পরিবার পেয়েছেন তা পরিবারের একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে তার পরিবার নি’রাপত্তার স্বার্থে সেটা গো’পন করেছেন।

জানা গেছে, ত্ব-হা’র স্ত্রী যেদিন সংবা’দ সম্মেলন করেন সেদিনেই ত্ব-হা’র স’ন্ধান পান তার পরিবার। পু’লিশি ঝা’মেলা হবে বলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চে’ষ্টা করেন।

আবু ত্ব-হা মুহাম্ম’দ আদনান গত ১০ জুন নিখোঁজ হন। নি’খোঁজের সময় আদনান রাজধানীর মিরপুরে অবস্থান করছিলেন। তখন রাত ২ টা ৩৭ মিনিট। সর্বশে’ষ কথা হয়েছিল তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহার সারা’র স’ঙ্গে।

সর্বশে’ষ মোবাইলে কথা বলার ঘ’টনাস্থল থেকে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসায় মিরপুর যেতে গুগল ম্যাপে দেখা গেছে ওই পথের দূরত্ব ছিল ৬ দশমিক ৪ কিলোমিটার। সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগতো ১৮ মিনিট। ওই ১৮ মিনিটের ভেতর লু’কিয়ে ছিল তার নিখোঁ’জ রহস্য।

সে বিষয়ে পু’লিশের পক্ষে কোনো স্প’ষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় স্ত্রীর স’ঙ্গে কথা বলার পর থেকে তার মোবাইলফোন ব’ন্ধ পাওয়া যায়। পরে সেখান থেকে ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

তার এক সফর সঙ্গী বগুড়ার শিবগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্ম’দ ফিরোজ আলম, গাড়ি চালক রংপুর নগরীর উত্তর আশরত পুরের বাসিন্দা আমির হোসেন ফয়েজ ও অপর সফর সঙ্গী রংপুরের মিঠাপুকুর উপজে’লার জায়গীর কাফ্রিখাল এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মুহিতসহ গাইবান্ধায় যান।

সেখানে গাইবান্ধার ত্রিমোহনী এলাকায় তার বন্ধু সিয়াম ইসলামের বাসায় এতদিন আ’ত্মগো’পন করে ছিলেন। শুক্রবার সকালে গাইবান্ধা থেকে তার ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বগুড়ায় মোহাম্ম’দ ফিরোজ আলমকে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি চালকসহ তারা তিনজন রংপুরে আসেন।

আসার পথে মিঠাপুকুরের জায়গীর কাফ্রিখালে আব্দুল মুহিতকে নামিয়ে দিয়ে আবু ত্ব-হা মুহাম্ম’দ আদনান গাড়ি চালকসহ বেলা সাড়ে ১২টায় রংপুরে শশুড় বাড়িতে প্রথম স্ত্রীর কাছে ফিরে আসেন।

ডিবি পু’লিশ খবর পেয়ে বেলা ৩টায় নগরীর আবহাওয়া অফিস সংলগ্ন মাস্টার পাড়ায় তার শ্বশুর আজহারুল ইস’লামের বাসা থেকে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। পরে গাড়ি চালকসহ অপর দুই স’ঙ্গীকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে তাদের ব্যাপক জি’জ্ঞাসাবা’দ শে’ষে বিকাল সাড়ে চারটায় ডিবি পু’লিশের পক্ষে প্রেসব্রিফিং করা হয়। সূত্রঃ বাংলাট্রিউবন

শেয়ার করুন