অবশেষে পাওয়া গেল মিন্নিকে পাঠানো নয়ন ব’ন্ডের শেষ এসএমএস

বহুল আ’লোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলায় তার স্ত্রী’’ আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আ’সামির ৬ জনের মৃ’ত্যুদ’ণ্ড দিয়েছেন আ’দালত। অ’পর চার আ’সামিকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

বরগুনা জে’লা ও দায়রা জজ আ’দালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান আজ এ মা’মলার রায় দেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মা’মলার ৭ নম্বর আ’সামি ও রিফাতের স্ত্রী’’ আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি এবং বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৮ আ’সামিকে কারাগার থেকে আ’দালতে আনা হয়। তারা হলেন- রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইস’লাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকট’ক হৃদয়, মো. হাসান, মো. মু’সা, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, রাফিউল ইস’লাম রাব্বি, মো. সাগর ও কাম’রুল ইস’লাম সাইমুন। অ’পর এক আ’সামি মু’সা পলাতক রয়েছেন।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রী’’র সামনে রিফাত শরীফকে (২৫) কু‌‌’পিয়ে হ’ত্যা করা হয়। পরে রিফাতকে কু‌‌’পিয়ে হ’ত্যার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ভাই’রাল হয়।

হ’ত্যাকা’ণ্ডের দিন সকাল ৯টা আট মিনিটের সময় এ নম্বর দিয়ে নয়ন ব’ন্ডকে কল দিয়ে ছয় সেকেন্ড কথা বলেন মিন্নি। এরপর আবার সকাল ৯টা ৩৮ মিনিটে নয়ন ব’ন্ডের দেয়া ওই নম্বরটি দিয়েই আবারও নয়ন ব’ন্ডকে কল দেন মিন্নি। এ সময় নয়ন ব’ন্ডের সঙ্গে ৩৫ সেকেন্ড কথা বলেন তিনি। এরপর ৯টা ৫৮ মিনিটের সময় নয়ন ব’ন্ড মিন্নির কাছে থাকা ওই নম্বরটিতে কল দেন। এ সময় মিন্নি ও নয়ন ব’ন্ডের কথোপকথন হয় ৪০ সেকেন্ড।

এরপর সকাল সোয়া ১০টার দিকে কলেজের সামনেই রিফাত শরীফের ওপর হা’মলা করে ব’ন্ড বাহিনী। হা’মলার পর বেলা ১১টা ৩১ মিনিটের সময় নয়ন ব’ন্ড মিন্নিকে একটি এসএমএস পাঠান। এরপর আবার বিকেল ৩টায় মিন্নিকে কল দিয়ে মিন্নির সঙ্গে এক মিনিট ২০ সেকেন্ড কথা বলেন নয়ন ব’ন্ড।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরগুনা জে’লা পু’লিশের এক সদস্য জাগো নিউজকে বলেন, ‘ত’দন্তের জন্য মিন্নি ও নয়ন ব’ন্ডের ব্যবহৃত নম্বরের কললিস্ট এবং এসএমএস কনটেন্ট প্রযু’ক্তির মাধ্যমে উ’দ্ধার করে পু’লিশ। এরপর এগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ে দেখা গেছে, রিফাত শরীফ মা’রা যাওয়ার পর নয়ন ব’ন্ড মিন্নির কাছে একটি এসএমএস পাঠান। বিকেল ৪টার কিছু সময় আগে পাঠানো ওই এসএমএসটিতে লেখা ছিল, ‘আমা’রে আমা’র বাপেই জন্ম দেছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নেয়া এক পু’লিশ সদস্য জাগো নিউজকে বলেন, নয়ন ব’ন্ডের এমন এসএমএস পাঠানোর র’হস্য উদঘাটনে রি’মান্ডে থাকা অবস্থায় আম’রা মিন্নির সঙ্গে কথা বলেছি। তখন মিন্নি এ বিষয়ে আমাদের বলেছেন, রিফাত শরীফকে মা’রার পরিকল্পনার সময় মিন্নি নয়ন ব’ন্ডকে বলেছিলেন, তুমি যদি রিফাত শরীফকে মা’রতে পার, তাহলে বুঝবো তোমা’রে তোমা’র বাপেই জন্ম দিছে।

মূলত মিন্নির এমন কথার উত্তর দিতেই রিফাতের মৃ’ত্যুর পর নয়ন ব’ন্ড মিন্নিকে ওই এসএমএসটি পাঠান। এ বিষয়টি আ’দালতে মিন্নি বলবেন বলে পু’লিশকে জানালেও আ’দালতে স্বীকারোক্তি দেয়ার সময় এই কথা মিন্নি আ’দালতে বলেননি বলেও জানান ওই পু’লিশ কর্মক’র্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিন্নি ও নয়ন ব’ন্ডের বিয়ের এক সাক্ষী জাগো নিউজকে বলেন, নয়ন ব’ন্ডের মায়ের নামে রেজিস্ট্রেশন করা নম্বরটি একসময় নয়ন ব’ন্ড নিজেও ব্যবহার করতেন। পরে ওই নম্বরটি পরিবর্তন করেন নয়ন ব’ন্ড।

তিনি আরও বলেন, মিন্নি মা’দকাসক্ত ছিল। এ কারণেই সে নয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখত। এ সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতো নয়ন ব’ন্ড। রিফাত শরীফের মাধ্যমেই মিন্নির সঙ্গে নয়ন ব’ন্ডের পরিচয় হয়। নয়ন ব’ন্ড ও মিন্নি উভ’য়ই মা’দকসেবী হওয়ায় তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা হতে সময় লাগেনি।

এদিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আ’দালত, বরগুনা জে’লা ও দায়রা জজ আ’দালত এবং হাই’কোর্টেও মিন্নির জামিন আবেদনের পর শুনানি হয়েছে। কিন্তু কোনো আ’দালতই জামিন মঞ্জুর করেননি মিন্নির। মিন্নির প্রতিটি জামিন শুনানিতেই বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ আ’দালতে উপস্থাপন করেছেন মিন্নি ও নয়ন ব’ন্ডের কথোপকথন ও ম্যাসেজ আদান-প্রদান-সংক্রান্ত কললিস্ট এবং হ’ত্যাকা’ণ্ডের সময় সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ।

এছাড়া এ হ’ত্যা মা’মলার দুই নম্বর আ’সামি রিফাত ফরাজি, তিন নম্বর আ’সামি রিশান ফরাজি, ছয় নম্বর আ’সামি রাব্বি আকন এবং ১২ নম্বর আ’সামি টিকট’ক হৃদয় হ’ত্যাকা’ণ্ডে মিন্নির সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করে আ’দালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানব’ন্দি দিয়েছেন। এছাড়া মিন্নি নিজেও রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ডে জ’ড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আ’দালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানব’ন্দি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বরগুনার আ’দালতে মিন্নির আইনজীবী অ্যাডভোকেট গো’লাম মোস্তাফা কাদের জাগো নিউজকে বলেন, গত ৩০ জুলাই বরগুনা জে’লা ও দায়রা জজ আ’দালতে মিন্নির জামিন শুনানির সময় বাদী এবং রাষ্ট্রপক্ষ আ’দালতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ মিন্নি ও নয়ন ব’ন্ডের কথোপকথন এবং ম্যাসেজ আদান-প্রদান-সংক্রান্ত কললিস্ট উপস্থাপন করেছিল এবং আ’দালত তা আমলেও নিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, হাই’কোর্টের বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চেও বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ মিন্নি ও নয়ন ব’ন্ডের কথোপকথন ও ম্যাসেজ আদান-প্রদান সংক্রান্ত কললিস্ট উপস্থাপন করেছিল। শুনানির সময় যেসব গ্রাউন্ডে আ’সামিপক্ষ মিন্নির জামিন মঞ্জুরের জন্য আ’দালতে বক্তব্য উপস্থাপন করে সেসব গ্রাউন্ডের বিপরীতে পর্যাপ্ত প্রমাণপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি।

এ বিষয়ে রিফাত হ’ত্যা মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মক’র্তা বরগুনা সদর থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি ত’দন্ত) মো. হু’মায়ুন কবির বলেন, রিফাত হ’ত্যা মা’মলার ত’দন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষের দিকে। ত’দন্ত প্রতিবেদন দাখিলের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে পু’লিশ।

তিনি আরও বলেনে, মা’মলার আলামত হিসেবে নয়ন ব’ন্ডের বাসা থেকে মিন্নির ব্যবহৃত একটি জামা, একটি চিরুনি, খোদাই করে নয়ন ও মিন্নির নাম লেখা একটি শামুক এবং নয়ন ব’ন্ডের রুমের দেয়ালে বাধাই করে টাঙানো মিন্নির একটি ছবি জ’ব্দ করেছে পু’লিশ। এছাড়াও অন্যান্য তথ্য উপাত্ত তো রয়েছেই।

এ বিষয়ে বরগুনার পু’লিশ সুপার মা’রুফ হোসেন বলেন, রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ড মা’মলা’টি একটি স্প’র্শকাতর মা’মলা। এ মা’মলার ত’দন্তে তাড়াহুড়া করলে ভুল থেকে মা’রাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই পু’লিশ সতর্কতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে মা’মলার ত’দন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এই বিভাগের আরো খবর
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: